Saturday, 29 June 2019

অল্প কথায় বেশি কিছু বুঝানোর বই: দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিং টোয়াইস

দীর্ঘযাত্রায় হাতের কাছে বই রাখা আমার অভ্যাস। আজকে হাতে ছিলো জেমস এম কেইন রচিত 'দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টোয়াইস' এর বাংলা অনুবাদ।

শুরু করেছিলাম রাত ১০ টার কাছাকাছি সময়ে, শেষ পৃষ্ঠায় যখন পৌঁছলাম তখন সময় ১২:৪৯।

১২৬ পেইজের ছোট একটা বই, কিন্তু কেমন যেনো টানটান উত্তেজনা ছিলো পুরোটা সময়, অল্প কথায় ঘুরিয়ে আনা হয়েছে অনেক বড় একটা পথ। এখানে প্রতিটা শব্দ এতোটাই গুরুত্ববহ যে মনে হয় একটা শব্দ বাদ দিলে ব্যাপারটা খাপছাড়া হয়ে যেতে পারত।

সর্বনিম্ন কথা ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ভাব প্রকাশের একটি উদাহরণ 'দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টোয়াইস'।

অনুবাদের মান অনেক ভালো, পড়ার সময় মনে হয়নি অনুবাদ পড়ছি। অনুবাদক নিজের মুখে যেনো লেখকের কথা ডিরেক্ট ন্যারেট করেছেন।

ফ্র্যাঙ্ক চেম্বার নামে ভবঘুরে যাযাবরের জবানীতে লেখা এই নোভেল। টুইন ওকস নামে একটি খাবারের দোকানে তার চাকরি নেয়া। দোকানের মালিক গ্রিক বংশোদ্ভূত নিক এর স্ত্রী কোরা স্মিথের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া। ভালোবাসা,ভালোবাসার কাটা সরাতে গিয়ে পাপ করে ফেলা এবং পরে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা এভাবেই এগিয়ে যায় কাহিনী।

এ হলো যাযাবর মনের এক মানব,উচ্চাকাঙ্খী এক নারী আর তাদের মাঝের আটকে যাওয়া ভালোবাসার শিকল এর কাহিনী।

গ্যারান্টি দিচ্ছি আপনি এটি পড়তে পারেন। সময় এবং টাকা বৃথা যাবেনা।

দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টোয়াইস একটি সার্থক এবং ক্লাসিক হার্ড বয়েল্ড থ্রিলার এটা আপনাকে অবশ্যই স্বীকার করতেই হবে।

বইটি ২০১৯  বইমেলায়বেরিয়েছে। দাম হাতের নাগালে ১৩৫ টাকা মাত্র। প্রকাশনী ভূমিপ্রকাশ।  বইটির এতো চমৎকার বাংলা অনুবাদ করেছে সালেহ আহমেদ মুবিন।

ddলেখকের সাথে caption


সুমন্ত আসলামের গল্পের বই: অলৌকিক

সুমন্ত আসলাম বর্তমান প্রজন্মের একজন মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত গল্পকার।ব‍্যাঙ্গগল্পে তার হাত বেশ পাকা।সময় প্রকাশনী থেকে ২০০৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বই এটি এবং এটার তৃতীয় মুদ্রনও নাকি ওই বইমেলায়ই প্রকাশিত হয়েছিল (মুদ্রন তথ্য থেকে)। পৃষ্ঠাসংখ‍্যা ৮৮।

অভিনয়, কুৎসিত, বেচারা চেহারা, প্রয়োজন,মুখোশ,চিহ্নস্মৃতি, ধূপকাঠি, অলৌকিক এই নামে আটটি গল্পের সমাহার এই বই। গল্পগুলো আমাদের চোখের কাছের অসংগতি নিয়েই যেমন এবরশন,কালো মেয়ের বিবাহ বিভ্রাট, বৃদ্ধের অর্থকষ্টে অবৈধ পথে পা বাড়ানো, অর্থাভাবে কন‍্যার বিবাহ না দিতে পারা পিতার কষ্ট এরকম বিষয়গুলোই উঠে এসেছে এখানে।

গল্পের ভূমিকায় অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা, মাঝখানে অস্পষ্টতা নিয়ে সামনে আগাতে থাকলে লেখক শেষ অবধি নিরাশ করেনি।শেষগুলো অনির্ণেয়।যেমনটা ভেবেছি তেমন সমাপ্তি হয়নি একটি গল্পও। অবশ্য দুই একটা পানসেও লেগেছে, নতুনত্ব ছিলনা।


Saturday, 23 February 2019

তোমাকে একটি নাম তোমাকে একটি নাম দিব

       শান্ত নদীর মতো রূপ তার;
                  অতীব সাধারণ,
        প্রাকৃতিক সাজে ভ্রু দুটির ধার;
                 একটু অন‍্যরকম।

            চুপচাপ, সানন্দা, সরলা,
            অপরুপ, অচেনা, অবলা,
            মাধ‍্যমিকা কিশোরী, বালিকা
            কৃষ্ণমনি নয়নী, অলীকা,
            নিচুস্বরা অবন্তী, নিলীমা,
             শুভ্ররঙা, অবনী,মহিমা।।

ছোট্ট সোনাদেহের আধেক পরিমাণ কেশ,
ঢেউ খেলানো, শান্ত-শিষ্ট নদীর মতো  বেশ।
কবি-চোখে তার কেশের তরঙ্গ-অদ্ভুত,অশেষ
জীবনানন্দ হয়তো বলতো;অশ্বত্থছায়া বিশেষ
প্রমিত ভাষিক অপচেষ্টা, উপভাষার  অসুর
অথচ দুপাটি শ্বেত শুভ্রদাঁত নির্গত সুহাসি নির্ভুল।
হালকা সংবেদনশীল হাতগুলোর সমাপ্তি
মেহেদী রঙিন দশটি আঙুলফুলে,
তার চরন  চিরল ঝিঙের মতো আকার
কালো পাদুকার সিলভীদুলে ।।

সে হাসে,ঠোঁট খুলে, মৃদুশব্দ হয় ,
ঝুপ ঝুপ নদী যে কলতানে বয়।

আচ্ছা কন‍্যা!
একথাটি কি তুমি জানো?
তোমার মুখ আঁকা চন্দন ফুলে।
তুমি কি হাসকুড়ি বিল চিন?
যেখানে শস‍্যের মতো প্রেম ফলে!
প্রকৃত সুশ্রী তো সে,যে সুন্দরী ঘুমালে।
চন্দন বদনা! ভালোবাসা দিবনা,
কারন উহা কর্পোরেট আজকাল ,
নিবে কি একটি শাশ্বত প্রেমডাল?
নাইবা নিলে উহা,আমিতো নিয়েছি অনেক;
স্মৃতিগ্রন্থে একটি হলুদবসনা শুভ্র পোর্ট্রেট,
কতগুলো হাসির প্লেলিস্ট, চোখের জ‍্যামিতি,
আলগা শব্দে হাঁটা ,আরো কত কি!,

ওহে নামহীনা!
তোমাকে উপহার দিব একটি নাম!
নামটি হবে চিরযৌবনা নদীর নামে।
 আচ্ছা তুমি,আমি এখনতো পদ্মা মাঝে।
এই  'পদ্মা' নামটি কি সাথে করে নেবে? দিব

       শান্ত নদীর মতো রূপ তার;
                  অতীব সাধারণ,
        প্রাকৃতিক সাজে ভ্রু দুটির ধার;
                 একটু অন‍্যরকম।

            চুপচাপ, সানন্দা, সরলা,
            অপরুপ, অচেনা, অবলা,
            মাধ‍্যমিকা কিশোরী, বালিকা
            কৃষ্ণমনি নয়নী, অলীকা,
            নিচুস্বরা অবন্তী, নিলীমা,
             শুভ্ররঙা, অবনী,মহিমা।।

ছোট্ট সোনাদেহের আধেক পরিমাণ কেশ,
ঢেউ খেলানো, শান্ত-শিষ্ট নদীর মতো  বেশ।
কবি-চোখে তার কেশের তরঙ্গ-অদ্ভুত,অশেষ
জীবনানন্দ হয়তো বলতো;অশ্বত্থছায়া বিশেষ
প্রমিত ভাষিক অপচেষ্টা, উপভাষার  অসুর
অথচ দুপাটি শ্বেত শুভ্রদাঁত নির্গত সুহাসি নির্ভুল।
হালকা সংবেদনশীল হাতগুলোর সমাপ্তি
মেহেদী রঙিন দশটি আঙুলফুলে,
তার চরন  চিরল ঝিঙের মতো আকার
কালো পাদুকার সিলভীদুলে ।।

সে হাসে,ঠোঁট খুলে, মৃদুশব্দ হয় ,
ঝুপ ঝুপ নদী যে কলতানে বয়।

আচ্ছা কন‍্যা!
একথাটি কি তুমি জানো?
তোমার মুখ আঁকা চন্দন ফুলে।
তুমি কি হাসকুড়ি বিল চিন?
যেখানে শস‍্যের মতো প্রেম ফলে!
প্রকৃত সুশ্রী তো সে,যে সুন্দরী ঘুমালে।
চন্দন বদনা! ভালোবাসা দিবনা,
কারন উহা কর্পোরেট আজকাল ,
নিবে কি একটি শাশ্বত প্রেমডাল?
নাইবা নিলে উহা,আমিতো নিয়েছি অনেক;
স্মৃতিগ্রন্থে একটি হলুদবসনা শুভ্র পোর্ট্রেট,
কতগুলো হাসির প্লেলিস্ট, চোখের জ‍্যামিতি,
আলগা শব্দে হাঁটা ,আরো কত কি!,

ওহে নামহীনা!
তোমাকে উপহার দিব একটি নাম!
নামটি হবে চিরযৌবনা নদীর নামে।
 আচ্ছা তুমি,আমি এখনতো পদ্মা মাঝে।
এই  'পদ্মা' নামটি কি সাথে করে নেবে?

Monday, 11 February 2019

কবিতা!আমি তোমাকে ভালোবাসি

আজ এই উল্লসিত জনস্রোতের সামনে ,
দুচোখ ছুঁড়ে জনগণের কেন্দ্রবিন্দুতে,
একটি কথা বলে দিতে চাই...
কবিতা! তোমাকে ভালোবাসি।
তুমিই আমার প্রেম,
তোমার ছন্দে নেচে ওঠে আমার প্রেতাত্মা।
তোমার বোকা মাত্রা, পঙ্ক্তি, মঞ্জুরি,সরলিত ভাব, আমাকে ঐতিহাসিক প্রেমিক বানায়।
তাই স্বগোতক্তির মতো আমি বারংবার উচ্চারণ করি-
কবিতা! আমি তোমাকে ভালোবাসি! ভালোবাসি।।

Friday, 10 August 2018

কবিতা: পদব্রজ


আমি আজকের মতো কোনো উত্তপ্ত বিকেলে,
দু'ধারে ইট বালুর স্তুপ করা পথে হেঁটে চলেছি।
এ সেই শহর, যেখানে আমি জন্মেছিলাম, কিন্তু
আজ রাস্তার কাউকে আমি চিনি না, আমাকেও না ।
একাধিক মাথা-উঁচু করার চেষ্টা,আকাশ দেখা যায়নি,
মাটির বুকে ইমারতের মতো কিছু টিউমার দেখেছি।।
হাঁটতে হাঁটতে যখন সামনে এগিয়ে, তখন 
দেখলাম, অনেক কঁচু গাছের সমাবেশ ।
দুচোখের স্টেরোস্কোপিক দৃষ্টিতে অনেক কাগজ, ফেস্টুন, সাইনবোর্ড,ব‍্যানার,ফলক,গ্রাফিতি ইত‍্যাদি।
পোস্টারে সনদপ্রাপ্ত ভালো মানুষের মিছিল দেখলাম,
যারা সবাই সৎ,যোগ‍্য,গরীবের বন্ধু এবং জনদরদী,
কিন্তু তাদের সাইনবোর্ড থেকে রক্তের আঁশটে গন্ধ।
পথের ধারে শহরের একমাত্র বিলাসকেন্দ্র,
নাম ঝাউতলা, সেখানে বিবিধশ্রেনীর; দরিদ্র, হতদরিদ্র,মধ‍্যবিত্ত,উচ্চবিত্ত প্রেমের নিদর্শন
হঠাৎ দেখলাম জেলখানার পুরোনো দেয়ালে
সবুজ কিছু লতা এবং গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।
অলি থেকে গলি ,এ লেন থেকে ও লেন,
সারা শহরের স্বাদ নিয়ে মনক্ষুণ্ণ হলাম,
কারণ খুঁজে পেলাম না,একটি চিন্তাবিদ রামছাগল!
তবে এখানে ভুখাপেটো রিক্সাওয়ালার মুখেও
রাজনীতির অতীত, ভবিষ্যতে এবং দর্শন আলোচিত
 অতঃপর নিয়নরঙা আলোর মতো কষ্ট নিয়ে
 প্রত‍্যাবর্তন করলাম, মানুষের বাসা নামক ছাগলের খোঁপে।।

Monday, 30 July 2018

কবিতা: তোমাকে একটি নাম দিব


তোমাকে একটি নাম দিব

       শান্ত নদীর মতো রূপ তার;
                  অতীব সাধারণ,
        প্রাকৃতিক সাজে ভ্রু দুটির ধার;
                 একটু অন‍্যরকম।

            চুপচাপ, সানন্দা, সরলা,
            অপরুপ, অচেনা, অবলা,
            মাধ‍্যমিকা কিশোরী, বালিকা
            কৃষ্ণমনি নয়নী, অলীকা,
            নিচুস্বরা অবন্তী, নিলীমা,
             শুভ্ররঙা, অবনী,মহিমা।।

ছোট্ট সোনাদেহের আধেক পরিমাণ কেশ,
ঢেউ খেলানো, শান্ত-শিষ্ট নদীর মতো  বেশ।
কবি-চোখে তার কেশের তরঙ্গ-অদ্ভুত,অশেষ
জীবনানন্দ হয়তো বলতো;অশ্বত্থছায়া বিশেষ
প্রমিত ভাষিক অপচেষ্টা, উপভাষার  অসুর
অথচ দুপাটি শ্বেত শুভ্রদাঁত নির্গত সুহাসি নির্ভুল।
হালকা সংবেদনশীল হাতগুলোর সমাপ্তি
মেহেদী রঙিন দশটি আঙুলফুলে,
তার চরন  চিরল ঝিঙের মতো আকার
কালো পাদুকার সিলভীদুলে ।।

সে হাসে,ঠোঁট খুলে, মৃদুশব্দ হয় ,
ঝুপ ঝুপ নদী যে কলতানে বয়।

আচ্ছা কন‍্যা!
একথাটি কি তুমি জানো?
তোমার মুখ আঁকা চন্দন ফুলে।
তুমি কি হাসকুড়ি বিল চিন?
যেখানে শস‍্যের মতো প্রেম ফলে!
প্রকৃত সুশ্রী তো সে,যে সুন্দরী ঘুমালে।
চন্দন বদনা! ভালোবাসা দিবনা,
কারন উহা কর্পোরেট আজকাল ,
নিবে কি একটি শাশ্বত প্রেমডাল?
নাইবা নিলে উহা,আমিতো নিয়েছি অনেক;
স্মৃতিগ্রন্থে একটি হলুদবসনা শুভ্র পোর্ট্রেট,
কতগুলো হাসির প্লেলিস্ট, চোখের জ‍্যামিতি,
আলগা শব্দে হাঁটা ,আরো কত কি!,

ওহে নামহীনা!
তোমাকে উপহার দিব একটি নাম!
নামটি হবে চিরযৌবনা নদীর নামে।
 আচ্ছা তুমি,আমি এখনতো পদ্মা মাঝে।

এই  'পদ্মা' নামটি কি সাথে করে নেবে?

Monday, 2 July 2018

কবিতাঃসামাজিক শল‍্যচিকিৎসা


আজকাল আমি আতঙ্কিত,
অল্পবিস্তর অতি ভীতসন্ত্রস্ত,
শুনেছি জীবাণুতে ঢাকা পড়েছে রাষ্ট্রযন্ত্র,
চোখ খুললেই দেখি পূর্ণদৈর্ঘ্য সর্ষে ফুলের ক্ষেত ।
আমার সাধের ফুলবাগানে কারা ওই চোষক?
কালো পোকা;যারা এতদিন মরাশকুনের রক্ত
খেয়ে,পরম আল্হাদিত হয়ে অতিতৃপ্ত ছিলো।
সমাজের শল‍্যচিকিৎসা দরকার; জরায়ু টিউমার,
আচ্ছা মানুষ কোথায়?সবইতো সংক্রামক টিউমারের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রী।।

Friday, 22 June 2018

ছড়াঃসেলুকাস

"সেলুকাস"


ভেঙে ইটের কোনা
আমরা বলি ধ্বসিয়েছি উঁচু দেয়াল।
পুটির পুচ্ছ ধরে
বলি এই দেখো হাঙরের চোয়াল।
জোনাকির পশ্চাত দেখে
বুলি দেই অম্বরে নক্ষত্র হেরেছি।
লিখে দেড় লাইন ছন্দ
বলি এ যুগের রবি ঠাকুর হয়েছি।
নিজের বিন্দুকে  সিন্ধু বলতে নেই কোন দ্বিধা
অপরের প্রশংসার সময় পেটে লাগে ক্ষিধা।
দাদাভাই! নিজের বেলায়তো ষোলআনা
অন্যের বেলায় কেন তুমি এত আনমনা?
উত্তরে দাদাভাইর একটাই জবাব
"বুঝবেনা, বুঝবেনা, ইহাই সেলুকাস।"

কবিতাঃ কংক্রিটের রসায়ন

"কংক্রিটের রসায়ন"


       
ভেবেছিলাম দেখবো আকাশ, দুচোখ মেলে।
গালভরা হাসবো আমি, প্রাণের জানালা খুলে।
আকাশে চাঁদ উঠে, রবির কিরণ শশীতে মিলায়।
দিনে দিনে অযত্নে জানালার মরিচার বেধ বেড়ে যায়।
অতঃপর স্বার্থ আর শীল-পাটা সম্পর্কের খেলা,
অদ্ভুত আর উদ্ভটতার ছায়ামেঘে কেটে যায় বেলা।
এ শহরে সজীব আত্মা মুমূর্ষে রূপ নেয়,
কালান্তরে সে পৈশাচিক আনন্দ দেয়।
কিন্ত আমি অসম্পূর্ণ বিক্রিয়ার উপজাত,
আমি অকৃতকার্য কংক্রিটের রসায়নে।
আমি মুক্তি চাই বাঁধা দেয়ালহীন কারাগারে
মুক্তিতো মিলবে একদিন তবে তা চিরতরে।

কবিতাঃ মফস্বলের দাফন

মফস্বলের দাফন



সন্ধ্যা নেমে এসেছে পশ্চিমের সরোবরে,
উড়তে থাকা শেষ পাখিটিও ফিরেছে ঘরে।
অকস‍্যাৎ কোনো দূর্ঘটনা  উপস্থিত না হলে,
ফুলির বুড়ো রিকশাওয়ালা বাপটাও ফিরবে নীড়ে।
চাকুরে বা ভবঘুরে সবাই এগিয়ে ঘরাভিমুখে,
খাকি পোশাকে মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশ।
স্ট্যান্ড থেকে এইমাত্র গেল শেষ বাসের পিছনের চাকাটি,
ওই দেখ ঝুলি নিয়ে বিপরীতে হাঁটছে শহুরে ভিক্ষুক।
এবার নিরবতা নামবে শহুরে রাস্তার পিচে।
অতঃপর নিরবতার কাফনে হবে মফস্বলের দাফন।।

কবিতাঃ নিঃসঙ্গ জলযাত্রা

নিঃসঙ্গ জলযাত্রা


চারদিকে কোলাহলের বিপরীতে নিরবতা,
নেই মাথার নিচে সুদৃশ্য বালিশ কিংবা কাঁথা।
জল চিড়ে গন্তব্যের পথে বিরাট জলযানটি,
মধ‍্যবয়স্কা নদীর হালকা বাঁকানো বুক বরাবর।
দৃষ্টিসীমায় অবাধ্য  জলরাশির দস‍্যু তরঙ্গেরা,
উপরে নির্বাক আসমানের অভিজ্ঞ তারা।
সরল অথবা বক্ররেখায় চলছে অগনিত জীবন,  আঁধারে প্রকৃতি নগ্ন, দিয়েছে পোশাক বিসর্জন।
দুপাশে ঘটনার উল্টো-প্রবাহে স্মৃতি চলমান।
সামনে এগিয়ে আমার পৃথিবী ,পিছনে ভালোবাসা।
চলছি কোলাহল থেকে কোলাহলের অভিমুখে,
অন্তর্বর্তীকালীন নিরব নিঃসঙ্গ জলযাত্রা।।


কবিতাঃঅজ্ঞাত বিপ্লবী

অজ্ঞাত বিপ্লবী

রাজপথের কোন উত্তপ্ত মিছিলের ভীরে,
নিরিহ পথচারী, শুধুই হাঁটছি খুব ধীরে,
স্লোগানে মুখরিত জনতা,আমি নির্বাক,
মূকাভিনয়ে আটকে দিচ্ছি কালের কপাট।
এ কি মৃত্যুর মিছিল, নাকি জীবনের জয়গান?
আমি আটকে যাওয়া বিপ্লবী,ছুটছি,শুধুই ছুটছি
তুমি কিংবা আমি অজ্ঞাত এজেন্ডার পতাকাবাহী।

কবিতাঃ মমদেয়াল

মমদেয়াল


আমি আকাশ দেখতে চাই
আকাশে যে মেঘ,
নদীর জলে ভেজাবো পা
কিন্তু নদীর ধারে আঁশটে গন্ধ।
বাতাসে শ্বাস নেবার কথা ছিলো
বাইরে বইছে কালবৈশাখী ঝড়,
একটি বার্তা আসার চুক্তি ছিল কি?
হয়ত ফুরিয়ে গেছে ইনবক্সের কালি।
তাইতো নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলি
মমসত্তা! তুমি বাঁধার দেয়াল।।

কবিতাঃআত্মহত্যা

আত্মহত্যা

চারিদিকে পুরোনো, জীর্ণ দেয়ালের আস্তর।
সময় ব‍্যবধান, নতুন নাটকের মঞ্চায়ন।
সাক্ষীতো সেই পুরোনো; স্মৃতিবহুল ইটগাথুনি।
প্রতিটি নতুন দিনের অবসান, নতুন আত্মহত্যা
অগনিত আত্মহত্যার বিরতিতে জীবন যাপন।
প্রতিক্ষণে আশা রঙে জীবনদেয়ালে আলপনা আঁকা,
পরক্ষনেই কালের ঝড়ে, নশ্বর বালিপতনে দেয়ালক্ষয়।
নতুন প্রত‍্যাশার পারদ জমে, শেষ পরিনতি নব অবক্ষয়।
ভালোবাসার পৃথিবী ছুটছে উল্টো গতিপথ ধরে।
চলে যোদ্ধা, উদ্দেশ্য নতুন আরেকটি আত্মহুতি
ভালোথাকার মরীচিকাছোঁয়া প্রতিযোগিতা: আত্মহত্যা।

কবিতাঃ অভ‍্যাসের পুনরাবৃত্তি

অভ‍্যাসের পুনরাবৃত্তি

অভ‍্যাসের পুনরাবৃত্তি

নিরবতার চাদরাবৃত 'স্বপ্ন সদনের' নিশিগল্প,
মোবাইল স্ক্রিনে বন্দী চিরসাথী দুই-নয়ন,
রুটিনমাফিক মুঠোফোনের ওপারে মিষ্টি কুয়াশা,
আকাশে হয়তো মেঘ, নয়তো চাদের জোৎস্না।
মনে রেখেছি কি আমায় অতিপরিচিত ছাদটা?
হয়তো না!আঁকিনিতো  কভু স্মৃতির দাগ হেথা,
আজ ইহা কি ইতিহাস,সুখবিলাস নাকি মনঃব‍্যাথা!
এখনো অসংজ্ঞায়িত রহস্য,  অনেক স্মৃতিকথা।
এখনোতো আকাশে জোৎস্নাবৃষ্টি হয়, আমি নাই।
পৃথিবীতে এখনো সুখজোয়ার তবুও সুখ কই?
উচ্চ মাধ্যমিক আবেগ উপেক্ষিত ভবনাট‍্যে ।
থেমে নেই জীবননদী উপরন্তু   খরস্রোতা।
বাক্সবন্দী স্মৃতি,চলছে নিয়নপথে অভিযান,
আজকাল বদলে গেছে আনন্দের অভিধান।
সব হারিয়েছে, দোষ নাগরিক স্তর উন্নয়নের ,
শুধু পুনরাবৃত্তি এক উচ্চমাধ‍্যমিক অভ‍্যাসের।
সে রাত জাগা চোখ আর সেলুলয়েড মুঠোফোন।

কবিতাঃজামরুল গাছ

জামরুল গাছ

স্মৃতির জামরুল গাছটি আজো দাঁড়িয়ে,
সময়ের পান্ডুলিপি; মাথাভর্তি পাতা নিয়ে।
প্রাকৃতিক অথবা কৃত্রিম বজ‍্য শরীরে, 
অসহ্য রকম দুঃখবোধে নির্বিকার সে।
বৃক্ষটি অনিরাপদ গন্তব্য; মৃত্যুর পথে ,
অকেজো নয় ওহে! প্রাণহীন হয়ে,
জ্বলবে জ্বালানি হয়ে উনুনে।
উন্নীত হব কবরে ততক্ষণে,
সে হলো জ্বালানি আমি হলাম উর্বরী,
পার্থক্য কোথায়? ছিলামতো দুই প্রাণী।

কবিতাঃ মানচিত্রের গল্প

মানচিত্রের গল্প

একটি গল্প বলতে চাই
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের গল্প।
যে গল্পে পাহাড় আছে,
      সবুজ অরণ্য আছে,
আছে উত্তাল সাগরের ফিনকি ,
পদ্মার রুপালি ইলিশের চুমকি।
আছে ধানগাছের দোলা,
আছে চির হরিতের খেলা।
এর পা টেকনাফ হলে মাথা তেঁতুলিয়া,
একহাত রূপসা আরেক হাত পাটুরিয়া।
এ গল্পে সোনাসম মাটি আছে,
উন্মুক্ত আকাশ আছে,
রাতের অর্ধেক চাঁদ আছে,
গ্রীষ্ম বর্ষার কলহ আছে,
আছে রোদ বৃষ্টির লুকোচুরি।
এ গল্পে ক্ষুদিরাম ফাঁসির মঞ্চে হাসে ,
তিতুমীর কেল্লা বানায়,
ফকির মজনু মেঠোপথে হাঁটে,
শরীয়তুল্লাহ সংগ্রাম করে।
একে একে আসে
বাংলার বাঘ হক সাহেব,
গনতন্ত্রের মানসপুত্র,
ভাসানী ধীরেন্দ্রনাথেরা।
এ গল্পে সুখের আলো আছে,
আছে দূর্ভিক্ষের হাহাকার।
এ গল্পে স্মরণ করা হবে
আসাদের রক্তাক্ত শার্ট,
রফিক বরকতদের শুকনো মুখ,
তখন গল্পকারের গলা কাঁপবে,
স্বরযন্ত্র হিম নিথর হবে,
কারণ জব্বাররা দিগন্তে মুখ তুলবে।

একে একে গল্পের সমাপ্তি আসবে
আসবে দখলদার হানাদার
নির্মল গগনে শকুন ওড়বে।
আমার বাবা অস্ত্র ধরবে,
মা আর ফুলি নামে বোনটা কাঁদবে,
লজ্জার বেদনায় অস্ফুট আর্তনাদ করবে তারা।
সব চিৎকার ছাপিয়ে
নেপথ‍্যে একটি গম্ভীর ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হবে
কোর্ট পরিহিত কিংবদন্তির আওয়াজ শোনা যাবে;
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে,
কল রেডির মেশিনে কলের গান,
"এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"
এবার পর্দা নামবে গল্পের।
দিগন্তে  দৃশ‍্যমান হবে
লাল সবুজে একটি অঙ্কিত মানচিত্র।

কবিতাঃ অস্তিত্ব সংকট

অস্তিত্ব সংকট


নিশুতি রাতে দিশেহারা চাঁদ,
 ‎অলীকতার শাড়ি পরা স্বপ্ন,
 ‎পাখি-ঘুমানো নিরবতায় হঠাৎ সুর,
 ‎অস্তিত্ব খুঁজছি অপেরার গীতিকার।

আকাশ নামক নীল ছাদের দিকে,
সামুদ্রিক পাথুরে রাস্তার শ‍্যাওলা পায়ে,
রহস্যজনক বাস্তবতার সিঁড়ির অন্তিম ধাপ,
উর্দ্ধগমনে রিক্ত মুসাফির নভোচারী।

 দৃষ্টিসীমায় অগনিত উৎসবের আমেজ,
 ‎হরিৎ,মেরুন,আসমানী রংধনু রঙের ভীরে,
 ‎শীতের নির্যাতনে জলহীন বিবর্ণ বৃক্ষ ,
 ‎অস্তিত্বের সন্ধানে অসুখী নিশাচর।

সামাজিক,সনদীয় বহু পরিচয়,
লৌকিকতার পোশাকে বাবু মহাশয়।
নিজ ভুবনে লক্ষ্মীছাড়া উপাধি পায়।
তথাকথিত অস্তিত্বের মাঝে অস্তিত্ব সংকট।

কবিতাঃ আততায়ী

আততায়ী


হৃদয়ের বাম অলিন্দ প্লাটফর্ম থেকে,
আন্তঃনগরট্রেন ছুটছে হাওয়াই বেগে,
আত্মপথে অতিপ্রাকৃত আত্মার খোঁজে,
কখনো‌ সে স্বাভাবিক,কবুও অপ্রকৃতিস্থ।
সমালোচিত হচ্ছে অপ্রকাশিত পান্ডুলিপিটি।
উড়ছে দেখ হকারের মলিন হাতে লিফলেট হয়ে ,
কবির প্রথম স্বপ্ন; শ্রেষ্ঠ সংকলনের নাম-কবিতাখানা।
শোন ওহে শিরোনামহীন ছোটগল্পের নায়কেরা!
সমাজের অচ্ছুত নিয়মের বাউন্ডুলে বাতাসে,
তোমার পঁচা নোংরা লাশের গন্ধ কেউ শুঁকে না,
লিপিবদ্ধ সংবিধানে তোমার বায়োগ্রাফি; আততায়ী।