কবিতা: পদব্রজ
আমি আজকের মতো কোনো উত্তপ্ত বিকেলে,
দু'ধারে ইট বালুর স্তুপ করা পথে হেঁটে চলেছি।
এ সেই শহর, যেখানে আমি জন্মেছিলাম, কিন্তু
আজ রাস্তার কাউকে আমি চিনি না, আমাকেও না ।
একাধিক মাথা-উঁচু করার চেষ্টা,আকাশ দেখা যায়নি,
মাটির বুকে ইমারতের মতো কিছু টিউমার দেখেছি।।
হাঁটতে হাঁটতে যখন সামনে এগিয়ে, তখন
দেখলাম, অনেক কঁচু গাছের সমাবেশ ।
দুচোখের স্টেরোস্কোপিক দৃষ্টিতে অনেক কাগজ, ফেস্টুন, সাইনবোর্ড,ব্যানার,ফলক,গ্রাফিতি ইত্যাদি।
পোস্টারে সনদপ্রাপ্ত ভালো মানুষের মিছিল দেখলাম,
যারা সবাই সৎ,যোগ্য,গরীবের বন্ধু এবং জনদরদী,
কিন্তু তাদের সাইনবোর্ড থেকে রক্তের আঁশটে গন্ধ।
পথের ধারে শহরের একমাত্র বিলাসকেন্দ্র,
নাম ঝাউতলা, সেখানে বিবিধশ্রেনীর; দরিদ্র, হতদরিদ্র,মধ্যবিত্ত,উচ্চবিত্ত প্রেমের নিদর্শন
হঠাৎ দেখলাম জেলখানার পুরোনো দেয়ালে
সবুজ কিছু লতা এবং গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।
অলি থেকে গলি ,এ লেন থেকে ও লেন,
সারা শহরের স্বাদ নিয়ে মনক্ষুণ্ণ হলাম,
কারণ খুঁজে পেলাম না,একটি চিন্তাবিদ রামছাগল!
তবে এখানে ভুখাপেটো রিক্সাওয়ালার মুখেও
তবে এখানে ভুখাপেটো রিক্সাওয়ালার মুখেও
রাজনীতির অতীত, ভবিষ্যতে এবং দর্শন আলোচিত
অতঃপর নিয়নরঙা আলোর মতো কষ্ট নিয়ে
প্রত্যাবর্তন করলাম, মানুষের বাসা নামক ছাগলের খোঁপে।।

No comments:
Post a Comment