Saturday, 29 June 2019

অল্প কথায় বেশি কিছু বুঝানোর বই: দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিং টোয়াইস

দীর্ঘযাত্রায় হাতের কাছে বই রাখা আমার অভ্যাস। আজকে হাতে ছিলো জেমস এম কেইন রচিত 'দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টোয়াইস' এর বাংলা অনুবাদ।

শুরু করেছিলাম রাত ১০ টার কাছাকাছি সময়ে, শেষ পৃষ্ঠায় যখন পৌঁছলাম তখন সময় ১২:৪৯।

১২৬ পেইজের ছোট একটা বই, কিন্তু কেমন যেনো টানটান উত্তেজনা ছিলো পুরোটা সময়, অল্প কথায় ঘুরিয়ে আনা হয়েছে অনেক বড় একটা পথ। এখানে প্রতিটা শব্দ এতোটাই গুরুত্ববহ যে মনে হয় একটা শব্দ বাদ দিলে ব্যাপারটা খাপছাড়া হয়ে যেতে পারত।

সর্বনিম্ন কথা ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ভাব প্রকাশের একটি উদাহরণ 'দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টোয়াইস'।

অনুবাদের মান অনেক ভালো, পড়ার সময় মনে হয়নি অনুবাদ পড়ছি। অনুবাদক নিজের মুখে যেনো লেখকের কথা ডিরেক্ট ন্যারেট করেছেন।

ফ্র্যাঙ্ক চেম্বার নামে ভবঘুরে যাযাবরের জবানীতে লেখা এই নোভেল। টুইন ওকস নামে একটি খাবারের দোকানে তার চাকরি নেয়া। দোকানের মালিক গ্রিক বংশোদ্ভূত নিক এর স্ত্রী কোরা স্মিথের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া। ভালোবাসা,ভালোবাসার কাটা সরাতে গিয়ে পাপ করে ফেলা এবং পরে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা এভাবেই এগিয়ে যায় কাহিনী।

এ হলো যাযাবর মনের এক মানব,উচ্চাকাঙ্খী এক নারী আর তাদের মাঝের আটকে যাওয়া ভালোবাসার শিকল এর কাহিনী।

গ্যারান্টি দিচ্ছি আপনি এটি পড়তে পারেন। সময় এবং টাকা বৃথা যাবেনা।

দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টোয়াইস একটি সার্থক এবং ক্লাসিক হার্ড বয়েল্ড থ্রিলার এটা আপনাকে অবশ্যই স্বীকার করতেই হবে।

বইটি ২০১৯  বইমেলায়বেরিয়েছে। দাম হাতের নাগালে ১৩৫ টাকা মাত্র। প্রকাশনী ভূমিপ্রকাশ।  বইটির এতো চমৎকার বাংলা অনুবাদ করেছে সালেহ আহমেদ মুবিন।

ddলেখকের সাথে caption


সুমন্ত আসলামের গল্পের বই: অলৌকিক

সুমন্ত আসলাম বর্তমান প্রজন্মের একজন মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত গল্পকার।ব‍্যাঙ্গগল্পে তার হাত বেশ পাকা।সময় প্রকাশনী থেকে ২০০৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বই এটি এবং এটার তৃতীয় মুদ্রনও নাকি ওই বইমেলায়ই প্রকাশিত হয়েছিল (মুদ্রন তথ্য থেকে)। পৃষ্ঠাসংখ‍্যা ৮৮।

অভিনয়, কুৎসিত, বেচারা চেহারা, প্রয়োজন,মুখোশ,চিহ্নস্মৃতি, ধূপকাঠি, অলৌকিক এই নামে আটটি গল্পের সমাহার এই বই। গল্পগুলো আমাদের চোখের কাছের অসংগতি নিয়েই যেমন এবরশন,কালো মেয়ের বিবাহ বিভ্রাট, বৃদ্ধের অর্থকষ্টে অবৈধ পথে পা বাড়ানো, অর্থাভাবে কন‍্যার বিবাহ না দিতে পারা পিতার কষ্ট এরকম বিষয়গুলোই উঠে এসেছে এখানে।

গল্পের ভূমিকায় অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা, মাঝখানে অস্পষ্টতা নিয়ে সামনে আগাতে থাকলে লেখক শেষ অবধি নিরাশ করেনি।শেষগুলো অনির্ণেয়।যেমনটা ভেবেছি তেমন সমাপ্তি হয়নি একটি গল্পও। অবশ্য দুই একটা পানসেও লেগেছে, নতুনত্ব ছিলনা।