Friday, 22 June 2018

ছড়াঃসেলুকাস

"সেলুকাস"


ভেঙে ইটের কোনা
আমরা বলি ধ্বসিয়েছি উঁচু দেয়াল।
পুটির পুচ্ছ ধরে
বলি এই দেখো হাঙরের চোয়াল।
জোনাকির পশ্চাত দেখে
বুলি দেই অম্বরে নক্ষত্র হেরেছি।
লিখে দেড় লাইন ছন্দ
বলি এ যুগের রবি ঠাকুর হয়েছি।
নিজের বিন্দুকে  সিন্ধু বলতে নেই কোন দ্বিধা
অপরের প্রশংসার সময় পেটে লাগে ক্ষিধা।
দাদাভাই! নিজের বেলায়তো ষোলআনা
অন্যের বেলায় কেন তুমি এত আনমনা?
উত্তরে দাদাভাইর একটাই জবাব
"বুঝবেনা, বুঝবেনা, ইহাই সেলুকাস।"

কবিতাঃ কংক্রিটের রসায়ন

"কংক্রিটের রসায়ন"


       
ভেবেছিলাম দেখবো আকাশ, দুচোখ মেলে।
গালভরা হাসবো আমি, প্রাণের জানালা খুলে।
আকাশে চাঁদ উঠে, রবির কিরণ শশীতে মিলায়।
দিনে দিনে অযত্নে জানালার মরিচার বেধ বেড়ে যায়।
অতঃপর স্বার্থ আর শীল-পাটা সম্পর্কের খেলা,
অদ্ভুত আর উদ্ভটতার ছায়ামেঘে কেটে যায় বেলা।
এ শহরে সজীব আত্মা মুমূর্ষে রূপ নেয়,
কালান্তরে সে পৈশাচিক আনন্দ দেয়।
কিন্ত আমি অসম্পূর্ণ বিক্রিয়ার উপজাত,
আমি অকৃতকার্য কংক্রিটের রসায়নে।
আমি মুক্তি চাই বাঁধা দেয়ালহীন কারাগারে
মুক্তিতো মিলবে একদিন তবে তা চিরতরে।

কবিতাঃ মফস্বলের দাফন

মফস্বলের দাফন



সন্ধ্যা নেমে এসেছে পশ্চিমের সরোবরে,
উড়তে থাকা শেষ পাখিটিও ফিরেছে ঘরে।
অকস‍্যাৎ কোনো দূর্ঘটনা  উপস্থিত না হলে,
ফুলির বুড়ো রিকশাওয়ালা বাপটাও ফিরবে নীড়ে।
চাকুরে বা ভবঘুরে সবাই এগিয়ে ঘরাভিমুখে,
খাকি পোশাকে মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশ।
স্ট্যান্ড থেকে এইমাত্র গেল শেষ বাসের পিছনের চাকাটি,
ওই দেখ ঝুলি নিয়ে বিপরীতে হাঁটছে শহুরে ভিক্ষুক।
এবার নিরবতা নামবে শহুরে রাস্তার পিচে।
অতঃপর নিরবতার কাফনে হবে মফস্বলের দাফন।।

কবিতাঃ নিঃসঙ্গ জলযাত্রা

নিঃসঙ্গ জলযাত্রা


চারদিকে কোলাহলের বিপরীতে নিরবতা,
নেই মাথার নিচে সুদৃশ্য বালিশ কিংবা কাঁথা।
জল চিড়ে গন্তব্যের পথে বিরাট জলযানটি,
মধ‍্যবয়স্কা নদীর হালকা বাঁকানো বুক বরাবর।
দৃষ্টিসীমায় অবাধ্য  জলরাশির দস‍্যু তরঙ্গেরা,
উপরে নির্বাক আসমানের অভিজ্ঞ তারা।
সরল অথবা বক্ররেখায় চলছে অগনিত জীবন,  আঁধারে প্রকৃতি নগ্ন, দিয়েছে পোশাক বিসর্জন।
দুপাশে ঘটনার উল্টো-প্রবাহে স্মৃতি চলমান।
সামনে এগিয়ে আমার পৃথিবী ,পিছনে ভালোবাসা।
চলছি কোলাহল থেকে কোলাহলের অভিমুখে,
অন্তর্বর্তীকালীন নিরব নিঃসঙ্গ জলযাত্রা।।


কবিতাঃঅজ্ঞাত বিপ্লবী

অজ্ঞাত বিপ্লবী

রাজপথের কোন উত্তপ্ত মিছিলের ভীরে,
নিরিহ পথচারী, শুধুই হাঁটছি খুব ধীরে,
স্লোগানে মুখরিত জনতা,আমি নির্বাক,
মূকাভিনয়ে আটকে দিচ্ছি কালের কপাট।
এ কি মৃত্যুর মিছিল, নাকি জীবনের জয়গান?
আমি আটকে যাওয়া বিপ্লবী,ছুটছি,শুধুই ছুটছি
তুমি কিংবা আমি অজ্ঞাত এজেন্ডার পতাকাবাহী।

কবিতাঃ মমদেয়াল

মমদেয়াল


আমি আকাশ দেখতে চাই
আকাশে যে মেঘ,
নদীর জলে ভেজাবো পা
কিন্তু নদীর ধারে আঁশটে গন্ধ।
বাতাসে শ্বাস নেবার কথা ছিলো
বাইরে বইছে কালবৈশাখী ঝড়,
একটি বার্তা আসার চুক্তি ছিল কি?
হয়ত ফুরিয়ে গেছে ইনবক্সের কালি।
তাইতো নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলি
মমসত্তা! তুমি বাঁধার দেয়াল।।

কবিতাঃআত্মহত্যা

আত্মহত্যা

চারিদিকে পুরোনো, জীর্ণ দেয়ালের আস্তর।
সময় ব‍্যবধান, নতুন নাটকের মঞ্চায়ন।
সাক্ষীতো সেই পুরোনো; স্মৃতিবহুল ইটগাথুনি।
প্রতিটি নতুন দিনের অবসান, নতুন আত্মহত্যা
অগনিত আত্মহত্যার বিরতিতে জীবন যাপন।
প্রতিক্ষণে আশা রঙে জীবনদেয়ালে আলপনা আঁকা,
পরক্ষনেই কালের ঝড়ে, নশ্বর বালিপতনে দেয়ালক্ষয়।
নতুন প্রত‍্যাশার পারদ জমে, শেষ পরিনতি নব অবক্ষয়।
ভালোবাসার পৃথিবী ছুটছে উল্টো গতিপথ ধরে।
চলে যোদ্ধা, উদ্দেশ্য নতুন আরেকটি আত্মহুতি
ভালোথাকার মরীচিকাছোঁয়া প্রতিযোগিতা: আত্মহত্যা।